• শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মহেশপুরে অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন জহির রায়হান থিয়েটারের ৩০ বছর পূর্তি আলোচনা সভা, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত সাপাহারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা-অনুষ্ঠিত কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন কর্তৃক চোরাকারবারি আটক সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন শেরপুরে চাঁদা না পেয়ে মারধর অপহরণ থানায় মামলা কাজিপুরে ৮ টি গাঁজার গাছসহ এক কারবারী গ্রেপ্তার উল্লাপাড়ার মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত কাজিপুরে সোনামুখীতে এম মনসুর আলী স্মৃতি ভলিবলের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত রায়গঞ্জের পাঙ্গাসীতে অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে চাউল বিতরন

সিসিক কাউন্সিলর লায়েকের বিরুদ্ধে পাচঁ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগে মামলা দায়ের

রিপোর্টারঃ / ২২০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২

জহুরুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ অফিস :

আলোচনা যেন পিছু ছাড়ছিল না কাউন্সিলর এ কে এ লায়েকের। একের পর এক অভিযোগের বোঝা কাধে নিয়ে চলতে হচ্ছে তাকে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডের আলোচিত কাউন্সিলর এ কে এ লায়েক। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে চাঁদাবাজি , দূর্নীতি সহ নানা রকম অপকর্মের অভিযোগে জর্জরিত তিনি। তার এইসব অপকর্মের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়েছে। কিছুতেই যেন মিলছে না সুরাহা। আইন-আদালত,প্রশাসনের দোহাই দিয়ে একের পর এক নৈরাজ্জ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি তার এলাকার এক বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোঃ শফিক মিয়া পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ এনে সিলেট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কাউন্সিলর এ কে এ লায়েককে প্রধান আসামী করে আরো ৪ জনের নাম উল্লেখ্য করে চাদাবাজির মামলা দায়ের করেন। (সিআর মামলা নং- ১৭০৮/২০২২ইং)।  মামলাটি মহামান্য আদালত সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। মামলায় উল্লেখ্য হয়, কাউন্সিলর লায়েক দুষ্ট প্রকৃতির লোক। মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করা তাদের নেশা ও পেশা। অভিযোগকারী শফিক মিয়া একজন মৎস ও সাটারিং ব্যবসায়ী। তাহার বাসার রাস্তা বড় করার নামে কাউন্সিলর লায়েক সহ অন্য আসামীরা তিন লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী করে,তাছাড়া এলাকার ভিতরে মৎস ব্যবসা করতে হলে এক লক্ষ টাকা এবং তাহার বাসার পাশে খোলা ড্রেনের কালভার্ট নির্মাণের নামে আরো এক লক্ষ টাকা সহ মোট পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ করেন তিনি।

তাছাড়া কাউন্সিলর লায়েকের নেতৃত্বে গত ৪/৫ দিন আগে শফিক মিয়ার উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তিনি অভিযোগে উল্লেখ্য করেন কাউন্সিলর লায়েক চাঁদা আদায়ের জন্য দা নিয়ে শফিকের পরিবারের উপর হামলা করেন,একই সময় শফিক লাঠি,খন্তি নিয়েও কাউন্সিলর লায়েকের উপর পাল্টা হামলা করেন। এই ব্যাপারে কাউন্সিলর লায়েক বলেন,গত ৪/৫ দিন আগেহ সিটি কর্পোরেশনের লেবাররা মশার ঔষদ (ধোয়া) দেয় শফিক মিয়ার বাসা এবং মৎস খামারের (ফিশারি) আশেপাশে। এই সময় মৎস খামারে ধোয়া দেয়ার কারণে শফিক মিয়া লেবারদের উপর তেড়ে উঠেন। তিনি বলেন ধোয়ার কারণে মাছগুলো মরে যেতে পারে। এই সময় লেবারকে মারধরেরও অভিযোগ করেন কাউন্সিলর লায়েক। তাছাড়া ঘটনার সময় একটি ফগার মেশিন কেড়ে নেয় এবং অন্য ফগার মেশিন ভাঙ্চুরের অভিযোগও করেন তিনি। এরই সূত্রতার জের ধরে তার উপর মিথ্যা এবং সাজানো মামলা দেয়া হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান,সিটি কর্পোরেশনের ডে-লেবার দিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের তত্বাবধানে মশার ঔষধ দেয়া হয়। কাউন্সিলর লায়েকের ওয়ার্ডে চারটি ফগার মেশিন দেয়া হয়েছিল তিনটি ফেরত দেয়া হয়েছে একটি মেশিন এখনো ফেরত পায়নি সিসিক। যেহেতু কাউন্সিলরের তত্বাবধানে মশার ঔষধ দেয়া হয় বিধায় মেশিনের দায়ভার উনার। উনি যদি এই ঘটনার সমাধান করতে না পারেন এবং আমরা মেশিন ফেরত না পাই তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান,মামলার নথী এখনো পর্যন্ত আমাদের হাতে এসে পৌছায়নি। উল্লেখ্য যে, করোণাকালীন সময়ে ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশনের খাদ্য ফান্ডের ১২৫ বস্তা চাল চুরির অভিযোগে ওঠে লায়েকের বিরুদ্ধে ।পরবর্তীতে তার বাসা থেকে চাল উদ্ধারের পর বেশ আলোচনায় আসেন তিনি। এ কে লায়েক বরাবরই আওয়ামীলীগ ঘরণার রাজনীতির পরিচয় দিলেও মহানগর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল জানানো হয় এ কে এ লায়েক আওয়ামীলীগের কেউ নয়,তার সাথে আওয়ামীলীগের কোন সম্পৃক্ততা নাই। এদিকে গত ২২ অক্টোবর উত্তরাধীকারী সনদ দেয়ার নামে ডিসি অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবী  করে ।এরপর বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি সনদ দেয় । পরবর্তীতে এঘটনার একটি  ভিডিও ফুটেজ এবং ফোন আলাপ ফাঁস হয়। এইসব ঘটনায় বারবার আলোচনায় আসছিলেন কাউন্সিলর লায়েক। তবুও তাঁর বিরুদ্ধে সিসিক বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় ।একের পর এক অপকর্ম করে চলেছেন কাউন্সিলর লায়েক। এমনটি দাবী করেন,এলাকাবাসী ।

 


এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন