• মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

মহেশপুরে সরকারী খাস জমি বিক্রি করে পকেট ভর্তি

রিপোর্টারঃ / ২৬৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ১নং এসবিকে ইউনিয়নের সুন্দরপুর ঘোষপাড়া গ্রামে সরকারী খাস খতিয়ানের প্রতি শতাংশ জমি ৩০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল আলম চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে ৩০ হাজার করে টাকা নিয়ে এসব খাস জমি বিক্রি করছেন সাইফুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তি। ইতিমধ্যে সরকারী খাস খতিয়ানের ১০০ শতাংশ জমির মধ্যে ৩০ হাজার টাকা দরে কাজল মিত্র রায়, চান মিয়া, ময়না খাতুন, চপল ও গৌয়ুরের কাছে প্রায় সাড়ে ২২ শতাংশ জমি বিক্রি করেছে সাইফুল আলম। এসব খাস জমি ক্রয়কৃতরা অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ। এসব জমিতে ক্রয়কৃতরা পাকা ইটের বাড়ি তৈরী করে বসবাসও শুরু করেছেন। চলতি দরে ১০০ শতক জমি বিক্রয় শেষ হলে সরকারী জমি বিক্রয় করে সাইফুল আলম চৌধুরীর পকেটে যাবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। জানতে চাইলে কাজল মিত্র রায় বলেন, আমি মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি। কিছু টাকা দিয়েছি আরো কিছু টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। সাইফুল আলম চৌধুরী আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে এই জমি হস্তান্তর করেছে। এখানে অনেকেই কিনেছে তাদের দেখাদেখি আমিও কিনেছি। পরে আমাদের কেনা জমির মাঝে আমরা বাড়ি-ঘর করেছি। খতিয়ান অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১নং এসবিকে ইউনিয়নের ১৩৫ নং সুন্দরপুর মৌজার আর এস ৩০৪নং দাগে ১০০ শতক জমি। যা পুরোটায় বাস্ত শ্রেণীর জমি ও সরকারী ১/১ খাস খতিয়ান ভূক্ত। পাশ^বর্তী জমির মালিক দীপু চৌধুরী জানান, এই দাগে ১১৮ শতক জমির মধ্যে ১৮ শতক জমি ব্যক্তি মালিকানা ও ১০০ শতক জমি সরকারি ১/১ খাস খতিয়ান ভূক্ত। কিন্ত্র এসব জমির ওপর সরকারিভাবে কোনো তদারকি না থাকায় ও সাইফুল আলম ধীরে ধীরে জমি গুলো তাদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘবছর ধরে এসব জমি সাইফুলরাই ভোগ-দখল করে আসছে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে সরকারি খাস জমি বিক্রি করা হচ্ছে। যে কারণে খাস জমি বিক্রিতে কেউ বাধা দিতেও সাহস পায় না। এ বিষয়ে সাইফুল আলম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সব জমি অর্পিত না এখানে আমার ব্যক্তি মালিকানা জমি আছে সেই জমি আমি বিক্রি করছি। হিন্দুদের কিছু জমি ছিল যা তারা নিজেরাই হস্তান্তর করে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এখানে ৫০ শতক মত অর্পিত সম্মতি ছিল। জানতে চাইলে খাস জমি বিক্রি করার বিষয়টি একে বারেই অজানা বলে জানান, এসবিকে ইউয়িন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি খোজ খবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। এ ব্যাপারে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজ বংশী জানান, বিষয়টি তার জানা নেই তবে তিনি এ ব্যাপারে খোজখবর নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

এ/হ


এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন