• রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সামাজিক কাজে অবদান রাখায় সংবর্র্ধিত হলেন কাজিপুরের সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজিপুরে আনোয়ারা আজাদ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ কাজিপুরে আনোয়ারা আজাদ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ বগুড়ায় মাটিডালী যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ শিবগঞ্জে প্রবীণ কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ সারিয়াকান্দি কুতুবপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ ধামরাইয়ের কালিয়াগারে জানালা ভাঙা নিয়ে তুমুল ঝগড়া ও সংঘর্ষ উপস্থাপনায় সেরা হওয়ার লড়াইয়ে বগুড়ার তামান্না খন্দকার ঈদ উপহার পেলেন কাজিপুরের ১৪শ দুস্থ পরিবার মোহাম্মদ নাসিমের জন্মদিনে কোরান শরিফ বিতরণ করলেন এমপি জয়

জামালপুরে ভোরের আলো ফুটতেই খেজুরের রস খেতে ছুটছেন যুবকরা

রিপোর্টারঃ / ২৪৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২

তৌকির আহাম্মেদ হাসু, জামালপুর প্রতিনিধি :
চারিদিকে কনকনে শীত। সূর্যের দেখা নেই। শীতকে উপেক্ষা করে একদল যুবক ছুটে চলেছেন খেজুরের রসের সন্ধানে। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে খুব ভোরে এ দৃশ্য দেখা মিলেছে। গতকাল বুধবার ভোরে সরিষাবাড়ী-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পপুলার জুট মিল সংলগ্ন ইজারাপাড়া গ্রামে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। দেখা যায়, পৌষের শীতে চারিদিকে কুয়াশাচ্ছন্ন। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ২০-৩০ বছর বয়সী শতাধিক যুবক মোটরসাইকেল, সিএনজি এবং অটোরিকশাযোগে খেজুরের রস খাওয়ার জন্য ভীড় জমিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরেই যুবকেরা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন। কেউ এই প্রথম, কেউবা আগেও এসেছেন কয়েকবার। লাইনে দাঁড়িয়ে তারা খেজুরের রস খাচ্ছেন। যারা প্রথমবার এসেছেন তাদের কাছে এ এক অন্যরকম অনুভূতি। খেজুরের রস খেতে কাকডাকা ভোরে শাকিল, কৌশিক, সাদ্দাম, মাঈনুল, লামসহ আরো অনেকে এসেছেন এ স্থানে। গাছ থেকে রস পাড়ছেন গাছি, এ সুযোগে বন্ধুদের সাথে খুঁনসুটিতে মেতে উঠেছেন তারা। কথা হয় তাদের সাথে।তারা জানান, শীতকালে বাঙালিদের প্রধান আকর্ষণ খেজুরের রস। প্রতিবছর এ মৌসুমে এখানে জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসে খেজুরের রস খেতে। কারণ এটিই জেলার একমাত্র স্থান যেখানে গুণে, মানে এবং স্বাদে অতুলনীয় রস পাওয়া যায়। এ রস শুধুমাত্র ভোরেই ভালো লাগে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রসের স্বাদ কমে যায়। হবিবুর রহমান হবি। বয়স ষাটোর্ধ। এ এলাকার একমাত্র গাছি তিনি। ভোর থেকেই ব্যস্ততা বাড়ে তার। কথা বলার সময় নেই। গাছ থেকে রস পাড়া থেকে শুরু করে সকল কাজ তিনি নিজে করেন। গত ২২ থেকে ২৪ বছর ধরে তিনি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। কথা হয় তার সাথে, তিনি বলেন, গাছ থেকে রসের হাঁড়ি নামাতে দেরি কিন্তু হাঁড়ি শেষ হতে দেরি হয় না। সকাল ৮টার ভিতরে শেষ হয় রসের হাড়ি। বহু দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসে এখানে। কয়েকদিনের শীতে এ সংখ্যা আরো বেড়েছে। তিনি আরো জানান, মূলত খেজুর গাছের ডালপালা পরিষ্কার করে, ডগার দিকের কা- চেঁছে তাতে একটা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি চোঙ বসিয়ে দেওয়া হয়। চোঙের শেষ প্রান্তে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি মাটির হাড়ি বা কলসি। সেই চোঙ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা রস এসে জমা হতে থাকে মাটির হাড়ি বা কলসিতে। এভাবে তিনি দৈনিক গড়ে ২০-২৫ লিটার রস সংগ্রহ করেন। আগে এক লিটার রস বিক্রি করতেন ৭০ টাকা, এখন বিক্রি করছেন একশত টাকা। তারপরও দিনদিন চাহিদা বেড়েই চলেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তিনি দেখেছেন এ পৌরসভার ইজারাপাড়া গ্রামে খেজুরের রস খাওয়ার জন্য কাক ডাকা ভোরে লোকজন ভীড় করছেন। এমন আগ্রহ ভবিষ্যতে খেজুর চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াবে বলেও জানান তিনি।

এ/হ


এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন