• শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মহেশপুরে অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন জহির রায়হান থিয়েটারের ৩০ বছর পূর্তি আলোচনা সভা, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত সাপাহারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা-অনুষ্ঠিত কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন কর্তৃক চোরাকারবারি আটক সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন শেরপুরে চাঁদা না পেয়ে মারধর অপহরণ থানায় মামলা কাজিপুরে ৮ টি গাঁজার গাছসহ এক কারবারী গ্রেপ্তার উল্লাপাড়ার মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত কাজিপুরে সোনামুখীতে এম মনসুর আলী স্মৃতি ভলিবলের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত রায়গঞ্জের পাঙ্গাসীতে অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে চাউল বিতরন

আরডিএ’র নকশা অনুমোদন শাখায় নেই পর্যাপ্ত জনবল, তবুও বেড়েছে সেবা

রিপোর্টারঃ / ২২১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২

রাজশাহী প্রতিনিধি :
স্বাধীনতার পর থেকেই মূলত রাজশাহীতে বহুতল ও নান্দনিক বিল্ডিং তৈরী শুরু হয়। যদিও তা খুব ধীর গতিতে।শহরের আর্থসামাজিক অবস্থা উত্তোরণের সাথে সাথে বহুতল ভবনের নির্মানও এখন প্রতিযোগিতা করে হচ্ছে।
১৯৮৪ সালে আরডিএ মাষ্টারপ্ল্যান করা হয়।যদিও প্রাচীন শহর রাজশাহীতে ১৮৭৬ সালে রাজশাহী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়।কিন্তু এর ১০০ বছর পরে আরডিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। আরডিএ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে এখানে কোন শহর পরিকল্পনা ছিল না।১৯৮৪ সাল থেকে আরডিএ নগর মাষ্টারপ্ল্যান করা শুরু করে।এরপর থেকেই ধীরে ধীরে পরিকল্পিতভাবে শহর গড়ে উঠা শুরু। ২০০০ সালের আগেও রাজশাহী অপরিকল্পিত শহর ছিল। এখানকার মানুষ খুব একটা নকশা অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ করতো না।সাধারণ মানুষ অথবা রাজমিস্ত্রীরা-ই নকশা তৈরি করতো। তা মানসম্পন্ন হতো না।আরসিসি ভবন ছিল হাতে গোনা। ২০০০ সালে আরডিএ এর অথরাইজড অফিসার পদ তৈরী হয়, দায়িত্ব পান আবুল কালাম আজাদ।এরপর থেকেই মূলত রাজশাহী শহরে ব্যক্তি পর্যায়ে আরসিসি ভবন নির্মাণ শুরু হয়।ইমারত বিধিমালা মেনে ভবনের নকশা করার জন্য স্থপতি, প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী তালিকাভুক্ত করেন তিনি।ফলে ভবনের মালিক স্থপতি বা প্রকৌশলী দিয়ে নকশা তৈরি করা শুরু হয়।এতে নকশা মানস্মপন্ন হয়। ১০০ জনের উপরে তালিকাভুক্ত স্থপতি ও প্রকৌশলী রয়েছে।

রাজশাহীতে উচ্চ ভবন তৈরি শুরু হয়েছে ২০০৬ সাল থেকে।আগে কেউ ভবনের কাঠামো নকশা তৈরি করতো না।কিন্তু কাঠামো নকশা ছাড়া কোনো ভবন ইঞ্জিনিয়ারিং ভবন হয় না।ভবনের নকশা তৈরীর ক্ষেত্রে সাধারণের মাঝে উদ্ভূদ্ধ করেন আবুল কালাম আজাদ। এরপর প্রত্যেক ভবনের নকশার সাথে একজন তালিকাভুক্ত প্রকৌশলী দিয়ে কাঠামো নকশা প্রস্তুত করে এবং সেটা অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ এর প্রচলনও করেন তিনি। আগে ভবন নির্মাণ এর জন্য মাটি পরীক্ষা হতো না। মাটি পরীক্ষা ছাড়া কাঠামো নকশা প্রস্তুত করলে সে ভবন ঝুঁকি মুক্ত হয় না। রাজশাহীতে ঝুঁকি মুক্ত ভবনের জন্য প্রত্যেক ভবনের কাঠামো নকশার জন্য মাটি পরীক্ষার প্রচলন করেন তিনি।এখন তালিকাভুক্ত প্রকৌশলী মাটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়,সেইমত কাঠামো প্রকৌশলী কাঠামো নকশা প্রস্তুত করে। সুতরাং স্থাপত্য নকশা ও কাঠামো নকশা অনুসারে বিল্ডিং কোড মেনে যেন ভবন নির্মাণ হয় সে জন্য প্রতিটি ভবনের নির্মাণ কাজের সাথে তালিকাভুক্ত প্রকৌশলী থাকেন।ভবনের মালিকের স্বার্থে ২০০৬ থেকে প্রতিটি ভবনের সাথে প্রকৌশলী যুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
এখন প্রতি বছর আরডিএ ৬০০ থেকে ৯০০ নকশা অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে ৯০% নকশা ২য়তলা থেকে ৬ তলার মধ্যে,বাকী বেশীর ভাগ ৭ তলা, কিছু ১০ তলা আছে, ২টি ভবন ২০ তলা। বর্তমানে উচ্চ ভবন তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। এখন তালিকাভুক্ত স্থপতি বা প্রকৌশলী দিয়ে একজন নির্মাণকারী, ভবন তৈরির শুরুতে স্থাপত্য নকশা তৈরি করেন।কাঠামো নকশা তৈরি করে নেন তালিকা ভুক্ত কাঠামো প্রকৌশলী দিয়ে। মাটি পরীক্ষা করে নেন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দিয়ে। তারপর সে নকশা জমা দেয় অনুমোদনের জন্য। অথরাইজড অফিসার একা কোন ভবনের নকশা অনুমোদন করে না।চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সরকার কর্তৃক গঠিত ৭ সদস্যদের কমিটি নকশা অনুমোদন করে এবং অবৈধ ভবনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অথরাইজড অফিসার একক ভাবে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। নিয়ম মেনে ভবনের নকশা অনুমোদন করা হয়। জমির মালিক ছাড়া অন্য কারো নামে বা ডেভেলপার এর নামে নকশা অনুমোদন করা হয় না। অনুমোদন যোগ্য কোন নকশা অনিষ্পত্তি নাই।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনসহ কাটাখালি পৌরসভা, নওহাটা পৌরসভা ও চারঘাট পৌরসভার অংশ রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত। অথরাইজড অফিসার মাত্র ৩ জন ইমারত পরিদর্শক নিয়ে নকশা অনুমোদন ও অবৈধ নির্মাণ এর বিষয়ে কার্যক্রম নিচ্ছে তারা।তার কোন সহকারী অথরাইজড অফিসার নাই। রাজউক, সিডিএ,কেডিএ সহ সবপ্রতিষ্ঠানে অথরাইজড অফিসার কে সহযোগিতা করার জন্য সহকারী অথরাইজড অফিসার থাকলেও আরডিএ তে তা নেই।সহকারী অথরাইজড অফিসার পদ আছে কিন্তু দীর্ঘ দিন থেকে সেই পদটি শূন্য। বর্তমানে শহরে ভবন নির্মাণ বাড়ছে। অনুমোদন ছাড়া নির্মাণও হচ্ছে।
আবার অনুমোদন নিয়েও, যে যেমন খুশি ভবন নির্মাণ করছে।ইতোমধ্যে প্রায় ৭০টি অবৈধ ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে আদালতে ইমারত নির্মাণ আইনে মামলা করেছে আরডিএ। নগর কাঠামোনিয়ন্ত্রনের জন্য প্রয়োজন প্রয়োজনীয় জনবল। প্রয়োজন ম্যাজিস্ট্রেট ও সহযোগী জনবল। অন্য দিকে, অবৈধ ভবন চিহ্নিত হওয়ার সাথে সাথে যদি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় অথবা অনুমোদিত নকশা ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়া হয় তাহলে শহরে অবৈধ নির্মাণ কমে যাবে।

উপরোক্ত কাজ করতে গিয়ে একটি চাঁদাবাজ গোষ্ঠী নিজস্ব স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে অন্যায় দাবি পুরণ করতে ব্যর্থ হয়ে ২০০৬ সালে অথরাইজড অফিসার এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করাও হয়। উচ্চ আদালত, সে মামলা মিথ্যা ঘোষণা করে খারিজ করে দেয়। জানতে চাইলে আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাজশাহী উন্নয়ন কতৃপক্ষ আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো কাজ করছেন।সাধারণের মাঝে এখন ভবনের নকশা প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে জনবল সংকট থাকায় চাহিদামত পর্যাপ্ত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছানো যাচ্ছে না।তবুও প্রতিবছর সেবার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 


এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন