• রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সামাজিক কাজে অবদান রাখায় সংবর্র্ধিত হলেন কাজিপুরের সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজিপুরে আনোয়ারা আজাদ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ কাজিপুরে আনোয়ারা আজাদ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ বগুড়ায় মাটিডালী যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ শিবগঞ্জে প্রবীণ কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ সারিয়াকান্দি কুতুবপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ ধামরাইয়ের কালিয়াগারে জানালা ভাঙা নিয়ে তুমুল ঝগড়া ও সংঘর্ষ উপস্থাপনায় সেরা হওয়ার লড়াইয়ে বগুড়ার তামান্না খন্দকার ঈদ উপহার পেলেন কাজিপুরের ১৪শ দুস্থ পরিবার মোহাম্মদ নাসিমের জন্মদিনে কোরান শরিফ বিতরণ করলেন এমপি জয়

ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলায় রাতদিন করাতকলের চলছে প্রতিযোগিতা প্রশাসনের নেই কোন নজরদারি

রিপোর্টারঃ / ২৮০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলায় আশেপাশে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে অবৈধ করাতকল (সমিল)। কোন নিয়মনীতি ছাড়া এসব অবৈধ করাতকল চলছে সাথে প্রতিদিনের ধ্বংস হচ্ছে বনজ ফলজ সহ নানা প্রজাতির গাছ। সেই সাথে সরকার প্রতিবছর হারাচ্ছে কয়েক লক্ষ টাকার রাজস্ব। রাতে দিনে সব সময় সচল থাকে এসব লাইসেন্স বিহীন করাতকল। শৈলকুপায় এমন কিছু করাতকল আছে, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বসবাসরত বাসাবাড়ির পাশে জোরপূর্বক স্থাপন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কাঠ ফাঁড়াইয়ের প্রচন্ড শব্দে পাশে বসবাসরত শিক্ষার্থী শিশু বৃদ্ধরা চরম উৎকন্ঠায় জীবন যাপন করেন। কোনভাবেই লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছেনা শৈলকুপায় গড়ে ওঠা বেপরোয়া এসব অবৈধ করাতকল মালিকদের। এই ভাবে দিনের পর দিন করাতকল চলতে থাকলে বড়ধরণের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাই দ্রুত এসব অবৈধ করাতকল অপসারন ও আইনের আওতায় আনারও দাবি আসপাশে বসবাসরত ভূক্তভোগীদের। ঝিনাইদহ শৈলকুপা

উপজেলার সরেজমিনে দেখা যায় প্রায় ৫৫ টি করাতকল আছে, যার পৌর এলাকার মধ্যেই ৮টি করাতকল রয়েছে। পুরাতন দুধবাজার মোড়ে খবির উদ্দিন নামে একজন অবৈধভাবে একটি করাতকল পরিচালনা করেন, কিন্তু তার কোন বৈধ কাগজ পত্র নাই। তাহার করাতকল সংলগ্ন চারপাশেই বাসাবাড়ির বসবাসরত মানুষের, অভিযোগ ও আছে কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি ক্ষমতার জোরে এবং প্রশাসনের ম্যানেজ করে দিন রাত ২৪ ঘন্টা চলছে কাজ । চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি অভিযানে শৈলকুপা ভূমি কর্মকর্তা পার্থপ্রতিম শীল ৩০০০ টাকা জরিমানা এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেন এই করাতকলের। তাৎক্ষনিক করাতকল মালিক খবির উদ্দিন ক্ষমা ও সময় দাবি করলে ভূমি কর্মকর্তা খবির উদ্দিনকে ১৫ দিনের মধ্যে করাতকলটি উক্ত স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ৮/৯ মাস গড়িয়ে গেলেও খবির উদ্দিন তার করাতকলটি সরিয়ে নেননি।

পার্থপ্রতিম শীল ঐদিন আরও ৪ টি অবৈধ করাতকলে একই ভাবে জরিমানা ও কাগজ পত্র করার জন্য নির্দেশ দেন। ফায়ার সার্ভিসের পাশে অবস্থিত করাতকলের মালিক রেজাউল, গাড়াগঞ্জ লোহার ব্রিজের পাশে কুমার নদের যায়গা দখলকারী করাতকলের মালিক মোন্তাজ মিয়া, ও গাড়াগঞ্জ বাজারে অবস্থিত হাসান সমিল এবং আঃ আজিজের করাতকল অবস্থিত ।এই ৫ টি করাতকল সহ কোন মালিক পক্ষই এই নির্বাহী ম্যাজিট্রেট মহোদয়ের নির্দেশ পালন করেননি। প্রকাশ থাকে যে, শৈলকুপা উপজেলা জুড়ে প্রায় ৫৫ টা করাতকল ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় ৫০ টি করাতকলের কোন বৈধ কাগজ পত্র নাই। বেশ কিছু করাতকল একেবারেই স্পর্শকাতর যায়গায় অবস্থিত, পৌর এলাকার ফাজেলপুর ৯ নং ইউনিয়ন পরিষদের পাশে শফিন নামে একজন সমিল মালিক সরকারি ক্যানেল এর ২০০ গজ রাস্তা কাঠের গুড়ি ফেলে বন্ধ করে দিয়েছেন, এতে গাড়ি সহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। কাতলাগাড়ি বাজারে আরেকজন করাতকল মালিক লিপু, তিনিও অবৈধভাবে ক্যানালের সরকারি যায়গা দখল করে কাঠের গুড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।

কবিরপুর হাসপাতাল রোডে মামুন নামে একজন করাতকল সহ রাস্তা জুড়ে কাঠের ঘর গুড়ি ফেলে সদর রাস্তা সকীর্ণ করে রেখেছেন, যার একপাশে হাসপাতাল আরেক পাশে খাদ্যগুদাম মাঝখানে উক্ত মামুনের করাতকল। সম্প্রতি ঐ রোডে মাসুদ নামের একজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগলে রাস্তা পাশে অবৈধ করতালের গাছ রাখার ফলে ফায়ার সার্ভিস গাড়ি পৌঁছাতে দেরি হওয়ার কারণে মাছুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাসাবাড়ির সর্বস্ব পুড়ে শেষ হয়ে যায়। এসব অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে অনেকেই শৈলকুপা উপজেলা বন কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মকলেসুর রহমান খানকে মৌখিক ভাবে বারবার অভিযোগ করলেও উনি সুকৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য বিগত ২৯/১১/২১ তারিখে পৎৰ নং ২২.০১.৪১০০.৩২৯.৩৭.০০২.২০২১/২১৭৯ সুত্র পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের স্বারক নং ২২.০০.০০০০.০৫.১৬.০০৫.২১.৪২৬ তারিক ১০/১০/২০২১ খ্রিঃ। প্রধান বন সংরক্ষক,বন অধিদপ্তর, ঢাকার স্মারক নং২২.০১.০০০০.০১১.০২(পার্ট-৩),২০২১.৫১৯ তারিখ ১৩/১০/২০২১ খ্রিঃ,, বিভাগীও বন কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত অবৈধ করাতকল উচ্ছেদের একটি আদেশ শৈলকুপার ফরেস্টার মোকলেসুর রহমানের নিকট থাকলেও উনি তা উপেক্ষা করে চলেছেন। ওনার ক্ষমতার উৎস কোথায় এটা ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলার সাধারণ মানুষ জানতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করাতকলের ক্ষেত্রে বনবিভাগ ও পরিবেশ অদিদপ্তরের ছাঁড়পত্র বাঁধ্যতামূলক।

 


এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন