• শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মহেশপুরে অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন জহির রায়হান থিয়েটারের ৩০ বছর পূর্তি আলোচনা সভা, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত সাপাহারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা-অনুষ্ঠিত কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন কর্তৃক চোরাকারবারি আটক সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন শেরপুরে চাঁদা না পেয়ে মারধর অপহরণ থানায় মামলা কাজিপুরে ৮ টি গাঁজার গাছসহ এক কারবারী গ্রেপ্তার উল্লাপাড়ার মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত কাজিপুরে সোনামুখীতে এম মনসুর আলী স্মৃতি ভলিবলের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত রায়গঞ্জের পাঙ্গাসীতে অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে চাউল বিতরন

যুদ্ধ থামান, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন: বিশ্বকে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩২৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ সবধরনের সংঘাত-সহিংসতা থেকে বিশ্বকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতেও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

সোমবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ‘বিশ্ব খাদ্য সম্মেলন-২০২২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ করছি, যুদ্ধ থামান, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন, খাদ্যের অপচয় রোধ করুন। এসবের পরিবর্তে খাদ্য ঘাটতি এবং দুর্ভিক্ষ কবলিত এলাকায় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করুন। মানুষ হিসেবে, আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, প্রত্যেকেরই খাদ্য নিয়ে বেঁচে থাকার এবং সুন্দর জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।’

কি-নোট স্পিকার হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে, আমাদের গ্রহে খাদ্যের কোনো অভাব নেই। অভাব কেবল মনুষ্যসৃষ্ট। খাদ্য নিয়ে রাজনীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থ, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ এবং কীটপতঙ্গ ও রোগের আক্রমণ—এসব কিছু আমাদের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অস্ত্র তৈরিতে বিনিয়োগ করা অর্থের ছোট একটি অংশও যদি খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণে ব্যয় করা হয়, তবে এই পৃথিবীতে কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না।’

খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন হিসাবে অনুমান করা হয়, বিশ্বের ৮০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ বা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রতিদিন ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যায়। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পাল্টা-পাল্টি নিষেধাজ্ঞায় পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত করছে এবং খাদ্যের দাম বাড়িয়েছে। প্রচুর সম্পদে পরিপূর্ণ এই বিশ্ব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য অবদান সেই সম্পদকে আরও বাড়িয়েছে; এ রকম বিশ্বে এই বঞ্চনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।’

ভার্চুয়ালি ফোরামে যোগ দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই ফোরাম এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবস্থা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা, কোভিড-১৯ মহামারি এবং আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে খরার কারণে বিপর্যস্ত। আমি আশা করি এটি কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমাধানগুলো অগ্রসর করতে মূল স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সংলাপকে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ৮০ কোটিরও বেশি মানুষ বা বিশ্বের জনসংখ্যার ১০ শতাংশ বরাবরই ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিছানায় যায় এবং ইউক্রেন যুদ্ধ, পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ফলে পরিস্থিতি এখন আরো খারাপ হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত করেছে এবং খাদ্যের দাম বাড়িয়েছে।

তিনি একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্বের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। কর সুবিধা, রফতানির জন্য প্রণোদনা এবং অন্যান্য সুবিধা যেমন প্রযুক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রম এবং বিনিয়োগের জন্য উপযোগী আইন রয়েছে বলে বাংলাদেশ এখন সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য উল্লেখ করে তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে কৃষি খাতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আমি বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই কৃষি খাতে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চাই।’
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ করছি, যুদ্ধ থামান, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন, খাদ্যের অপচয় রোধ করুন। এসবের পরিবর্তে খাদ্য ঘাটতি এবং দুর্ভিক্ষ কবলিত এলাকায় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করুন। মানুষ হিসেবে, আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, প্রত্যেকেরই খাদ্য নিয়ে বেঁচে থাকার এবং সুন্দর জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে এফএও-তে যোগদানে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কারণ, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, জাতিসংঘের এই আন্তর্জাতিক সংস্থা নতুন দেশটির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর অগ্রণী উদ্যোগের মধ্যে ছিল কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সবুজ বিপ্লবের ডাক দেওয়া।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়নের জন্য দেশের উন্নয়ন বাজেটের পঞ্চমাংশ বরাদ্দ করেন এবং কৃষির সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুতে কৃষি কর্মসূচি এবং অন্যান্য সকল উন্নয়ন উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়ে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তারপরে, কয়েক দশক অগ্রগতি ছাড়াই অতিবাহিত হয়। তারপরে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের জন্য ২১ বছর সংগ্রামের পর, ১৯৯৬ সালের জুন মাসে, তিনি একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠনের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা দেশটিকে যেখানে রেখে গিয়েছিলেন, অবিলম্বে, আমি সেখান থেকে শুরু করেছিলাম। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে তার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা পুনরুজ্জীবিত করেছিলাম এবং বিশেষ করে কৃষিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়টি অন্যান্য সকল প্রয়োজনের আগে প্রথম স্থান পেয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন চার মিলিয়ন মেট্রিক টন চালের ঘাটতি ছিল এবং তাঁর প্রথম মেয়াদ শেষে ২.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন চালের উদ্বৃত্ত ছিল।

সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান মেয়াদে, তাঁরা আবার ধান উৎপাদনে উল্লেযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন। মোট চাল উৎপাদন ২০০৮ সালে ছিল ২৮.৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন তা থেকে গত বছর উৎপাদন ৩৮ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বাস্তববাদী নীতি, শক্তিশালী প্রণোদনা এবং বিশেষ করে আমাদের কঠোর পরিশ্রমী কৃষকদের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।’ তাঁর সরকারের নীতিতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য যান্ত্রিকীকরণ এবং নতুন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতিতে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হারে ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা খাদ্য ঘাটতি থেকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে উন্নীত করতে বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য এফএওকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আমি আশা করি, এফএও বিশেষ করে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর, পুষ্টি এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবিকা ব্যবস্থার স্বার্থে তা অব্যাহত রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তার বক্তৃতা শেষ করেন, যিনি ১৯৭৪ সালের ইউএনজিএ অধিবেশনে তাঁর প্রথম ভাষণে বলেছিলেন, ‘আসুন আমরা একসাথে এমন একটি বিশ্ব তৈরি করি, যা দারিদ্র্য, ক্ষুধা, যুদ্ধ এবং মানুষের দুর্ভোগ নির্মূল এবং মানুষের কল্যাণের জন্য বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জন করতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন