• শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মহেশপুরে অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন জহির রায়হান থিয়েটারের ৩০ বছর পূর্তি আলোচনা সভা, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত সাপাহারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা-অনুষ্ঠিত কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন কর্তৃক চোরাকারবারি আটক সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন শেরপুরে চাঁদা না পেয়ে মারধর অপহরণ থানায় মামলা কাজিপুরে ৮ টি গাঁজার গাছসহ এক কারবারী গ্রেপ্তার উল্লাপাড়ার মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত কাজিপুরে সোনামুখীতে এম মনসুর আলী স্মৃতি ভলিবলের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত রায়গঞ্জের পাঙ্গাসীতে অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে চাউল বিতরন

ভারতকে হারিয়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

রিপোর্টারঃ / ২৩৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২

ডেক্স রিপোর্ট-
একসময় মিডল অর্ডারেই ব্যাটিং করতেন রোহিত শর্মা। কাল নামলেন লোয়ার অর্ডারে। নামার কথা ছিল না অবশ্য। টস হেরে ফিল্ডিং পাওয়ার পর শুরুর দিকেই ক্যাচ ধরতে গিয়ে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে চোট পেয়ে মাঠ থেকে শুধু বেরিয়েই যেতে হয় না তাঁকে, ঘুরে আসতে হয় হাসপাতাল থেকেও।
এক্স-রে রিপোর্টে চিড় ধরা না পড়লেও অস্বস্তি চরমেই ছিল। তা নিয়েও অনিশ্চিত হয়ে পড়া ভারতের জয় নিশ্চিত করতে ৯ নম্বরে নেমে যেতে হয় তাঁকে। চোটগ্রস্ত আঙুল নিয়েও সিরিজ হার এড়াতে বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে ওঠেন ভারত অধিনায়ক।
নেমেই এবাদত হোসেনকে মারেন দুই ছক্কা ও এক চার। ব্যাট হাতে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির পর বোলিংয়েও দলকে দারুণ দুটো ব্রেক থ্রু এনে দেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ করতে আসেন পরের ওভার (৪৭তম)। তবে হাঁটুর সমস্যায় এক বল করেই মাঠের বাইরে চলে যান তিনি, ওভার শেষ করেন মাহমুদ উল্লাহ। তিনি ৫ বলে মাত্র ১ রান দেওয়ায় রোহিতের আলগা করে দেওয়া চাপ আবার ফিরে আসে ভারতের ওপর। পরের ওভার মেডেন দিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান জয় একরকম নিশ্চিতই করে ফেলেন যেন! কিন্তু শেষ হয়েও হয় না শেষ। ৪৯তম ওভারে চরম নাটকীয়তা। মাহমুদের প্রথম বলই ছক্কায় ওড়ান রোহিত। আরেকটি ছক্কার আগে বল আকাশে তুলে দিয়েও বেঁচে যান এবাদত হোসেনের সৌজন্যে। পঞ্চম বলে আবার তাঁর ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন এনামুল হক। তাঁর একাধিক ছক্কায় এবং একাধিকবার বেঁচে যাওয়ায় ম্যাচে থাকে ভারতও। তা মাহমুদ ওই ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ সিরাজকে বোল্ড করার পরও। শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন দাঁড়ায় ২০ রানের।

রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার শেষাঙ্কে মুখোমুখি রোহিত-মুস্তাফিজ। প্রথম ডেলিভারিতে ব্যাটে-বলে করতে না পারা ভারত অধিনায়ক এরপর টানা দুটো চার মারেন। চতুর্থ বল আবার ডট। ২ বলে লাগে ১২ রান, দুটো ছক্কা মারার প্রয়োজন তখন। পঞ্চম বলে রোহিত তা মারেনও। শেষ বলে অবশ্য আরেকটি মারার কোনো উপায়ই থাকল না তাঁর। কারণ মুস্তাফিজ ছুড়লেন ইয়র্কার, ব্যাট নামিয়ে রোহিত খেলতে পারলেন বটে, কিন্তু ওই শটে বড়জোর একটি সিঙ্গল হয়। হারের হতাশায় রিক্ত-নিঃস্ব রোহিত তা আর নিলেন না। অন্যদিকে বাংলাদেশ শিবির তখন ৫ রানের জয়ে দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয়ের উল্লাসে রঙিন। তাদের সঙ্গে ততক্ষণে সুর মিলিয়েছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম ভরিয়ে তোলা দর্শকরাও। ২০১৫-এর পর আবার।

এই জয় দেশের মাটিতে বাংলাদেশের মহাশক্তিধর দল হয়ে ওঠার সগৌরব ঘোষণাও দিল আরেকবার। গত ১৮টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এটি বাংলাদেশের ১৫তম জয়। এবারের জয়ের কারিগর হিসেবে মিরাজের নামও টুকে নিয়েছে ইতিহাস। প্রথম ওয়ানডের ম্যাচ সেরা কাল আরো উজ্জ্বল। তা-ও আবার দলের আরেকটি ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে। ৬৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর মাহমুদ উল্লাহকে নিয়ে গড়লেন ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের যেকোনো উইকেটের সর্বোচ্চ ১৪৮ রানের পার্টনারশিপ। প্রথম ম্যাচের ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচিত মাহমুদ এবার ঠিকই ৯৬ বলে ৭৭ রান করে সহায় হলেন দলের। তাঁর বিদায়ের পরও রয়ে যাওয়া মিরাজ শেষের দিকে তুললেন ঝড়ও। সেই ঝড়ে তাঁর সঙ্গী নাসুম আহমেদও (১১ বলে ১ ছক্কা ও ২ চারে অপরাজিত ১৮ রান)। ৮৫ রান নিয়ে শেষ ওভার শুরু করা মিরাজ শার্দুল ঠাকুরকে দুই ছক্কা মেরে জাগালেন প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও। ইনিংসের শেষ বলে তা করে ফেললেনও। ৮৩ বলে করা অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসে দলকে নিয়ে গেলেন ২৭১ রানে।

৬ উইকেটে ৬৯ থেকে ২৭১! এটিকেই হারের কারণ বলে দাঁড় করালেন রোহিত শর্মা। ম্যাচের পর বলছিলেন, ‘৬ উইকেটে ৬৯ থেকে ২৭১ পর্যন্ত যেতে দেওয়াই বলে দেয় আমাদের বোলিংটা জুতসই ছিল না। তাই বলে মেহেদী ও মাহমুদের কৃতিত্বকেও আমি খাটো করছি না। ’ সেই সঙ্গে এও বলতে ভুললেন না, ‘পার্টনারশিপ গড়লে তেমন পার্টনারশিপই গড়া উচিত, যেটি দলের জয় নিশ্চিত করে। ওরা দুজনে মিলে ঠিক সেই কাজটিই করেছে। ’ এরপর দরকার ছিল আগের ম্যাচের বোলিংয়ের ছন্দটাও ধরে রাখার। সেটি কে ধরে রাখলেন না? এবাদত (৩/৪৫) থেকে শুরু করে মিরাজ (২/৪৬), সাকিব (২/৩৯) ও মুস্তাফিজ (১/৪৩)। বাধা হয়ে উঠতে চলেছিলেন ২৭ বলে ফিফটি করে ফেলা রোহিত! এক ইয়র্কারে তাঁকে থামিয়ে মুস্তাফিজ বের করেন জয়, সেই সঙ্গে সিরিজও!


এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন