• রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সামাজিক কাজে অবদান রাখায় সংবর্র্ধিত হলেন কাজিপুরের সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজিপুরে আনোয়ারা আজাদ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ কাজিপুরে আনোয়ারা আজাদ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ বগুড়ায় মাটিডালী যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ শিবগঞ্জে প্রবীণ কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ সারিয়াকান্দি কুতুবপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ ধামরাইয়ের কালিয়াগারে জানালা ভাঙা নিয়ে তুমুল ঝগড়া ও সংঘর্ষ উপস্থাপনায় সেরা হওয়ার লড়াইয়ে বগুড়ার তামান্না খন্দকার ঈদ উপহার পেলেন কাজিপুরের ১৪শ দুস্থ পরিবার মোহাম্মদ নাসিমের জন্মদিনে কোরান শরিফ বিতরণ করলেন এমপি জয়

ফের অস্থিতিশীল নিত্যপণ্যের বাজার, নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষের

রিপোর্টারঃ / ৬৪৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২

নিত্যপণ্যের বাজারে আবার আগুন লেগেছে, আর সেই আগুনে জ¦লছে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন। বাজারে ঢুকতেই ভয় পাচ্ছেন এসব মানুষ। নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামে তাঁদের স্বাস্থ্যহীন পকেট নিমিষেই হয়ে যাচ্ছে খালি। জীবনযাত্রা নির্বাহ করা হয়ে উঠেছে দুষ্কর। নিত্যপণ্যের আকাশ ছোঁয়া দাম মেটাতে নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাচ্ছে তাঁদের। মধ্যবিত্তের দশাও করুণ। কিন্তু বরাবরের মতো তাঁদের বুক ফাটলেও মুখ ফুটছে না। ফলে সবচেয়ে অসহনীয় অবস্থায় দিন কাটছে তাঁদেরই।

জানা যায়, নিত্যপণ্যের বাজারে এক ধরণের অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি, ডিম, মাছ, মাংসের মতো পণ্যের দাম আগে থেকেই চড়া। চলছে শীতের মৌসুম। শীতের এই ভরা মৌসুমেও শাকসবজির দাম নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। শুধু কাঁচাবাজারই কেন, পোশাক-পরিচ্ছদ, টয়লেট্রিজ ও গৃহস্থালি পণ্য, ওষুধপত্র, নির্মাণসামগ্রী, রান্নার গ্যাসসহ প্রায় সব জিনিসের দাম বেড়েছে। মানুষের যাতায়াত খরচও বেড়েছে আগের তুলনায়। সামগ্রিকভাবে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেই এখন চাহিদার তুলনায় কম বাজার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পুষ্টি সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আগে থেকে স্থিতিশীলতা হারাতে বসা বাজারকে আরও নতুনভাবে অস্থিতিশীল করে তোলার অণুঘটক হিসেবে কাজ করছে মূলত ওমিক্রন। দিন দিন ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।ওমিক্রনের বিস্তার রোধে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এতে আবারও অর্থনৈতিক কর্মকা- ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কাজের সুযোগও কমতে পারে। এ অবস্থায় মূল্যস্ম্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁদের মতে,পণ্য ও সেবামূল্য বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাপনের ব্যয় আগে থেকেই বেড়ে গেছে। নতুন করে কাজের সুযোগ সংকুচিত হলে শ্রমজীবী মানুষ আবার বড় ধরনের সংকটে পড়বে। সরকারের উচিত হবে সাধারণ মানুষের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া। সেজন্য টাকার অবমূল্যায়ন ঠেকানো দরকার। পাশাপাশি ভর্তুকির চাপ কমাতে জ¦ালানির দাম বাড়ানো ঠিক হবে না। ওএমএসের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানোর পরামর্শও দিচ্ছেন তাঁরা।

বিভ্রান্ত অবস্থায় পড়েছে পোশাক শিল্পের শ্রমিকরাও।নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বলতে গেলে তাঁরা একপ্রকার দিশাহারা। যে হারে বেতন বা আয় বেড়েছে, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে তার দ্বিগুণ। ফলে প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কম খেয়ে, খরচ কমিয়ে কোনো মতে চলতে হচ্ছে।

জানা যায়, তিন বছরে নিত্যপণ্যের খরচ বৃদ্ধিজনিত কারণে ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তিনবছরে চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। সবজির দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। পেঁয়াজ, তেল, ডালের অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া দামই স্থির হয়ে গেছে। বর্তমানে নিত্যপণ্যের বাজারে যে ঊর্ধ্বগতি দশা চলছে তাতে প্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে এই নিম্ন আয়ের মানুষের। সারা দিনরাত খেটেও স্বস্তিতে নেই তাঁরা।

এছাড়া মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আছে করোনা পরিস্থিতিতে কর্ম হারোনা ও বেতন হ্রাসের মতো ব্যাপার। জীবন নির্বাহের খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, সরকারের হিসেবেই তা উঠে এসে এসেছে। যদিও বাজারের প্রকৃত চিত্রের চেয়ে সরকারের হিসেবে কম প্রতিফলিত হয় বলে আলোচনায় আছে। তারপরও বাজার দর সরকারের প্রাক্কলিত লক্ষ্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

অভিযোগ আছে, বাজারে অনেক পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে অযৌক্তিকভাবে। বাজার বিশ্নেষকরা বলছেন, কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা আছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক ধরনের শিল্প ও ভোগ্যপণ্যের কাঁচামাল এবং মধ্যবর্তী পণ্যের দাম বেড়েছে। আবার বেড়েছে জ¦ালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ। করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলে সারাবিশ্বেই ভোগ্য ও শিল্পপণ্যের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে দাম বেড়েছে। এ ছাড়া আরেকটি কারণ হলো, জাহাজসহ অন্যান্য পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি। জাহাজ ভাড়া যেমন বেড়েছে, তেমনি পণ্য সরবরাহে বেশি সময়ও লেগেছে। তবে এসব কারণে যতটুকু বাড়া উচিত, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি বাড়ছে। এর মানে ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন। আবার কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই। যেমন ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ছে। কোনো সবজিই এখন স্বাভাবিক দামে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ পৌষ, মাঘ মাসে শীতকালীন সবজির দাম কম থাকে। অন্যদিকে এ সময় খালবিল, ঘের শুকিয়ে আসায় মাছের সরবরাহ বেড়ে দামও কমে যায়। এ বছর সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছে না। কয়েক বার বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। এখন আবার বাড়ানোর চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।

যে চালের ওপর দেশের শতভাগ মানুষকে নির্ভর করতে হয়, সেই চালের দাম বিভিন্ন সময়ে অনিয়ন্ত্রিত ছিল। বাজারে দাম উঠা নামা করেছে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে।টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে প্রতি কেজি মোটা চাল মানভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক বছরের ব্যবধানে এ ধরনের চালের দাম প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়েছে। সরু চালের দাম এক বছরের ব্যবধানে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও মাঝারি মানের চালের দাম ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এখন আমন ধানের মৌসুম। এ সময় চালের দাম কম থাকার কথা, অথচ বাজার পরিস্থিতি তা বলছে না। অন্যদিকে, আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত। আটা-ময়দা থেকে তৈরি বেকারি পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেল বর্তমানে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। প্রতি লিটার পাম অয়েলে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। মানভেদে ডালের দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত। পেঁয়াজ, শুকনো মরিচ, হলুদ, আদা, জিরা, গরম মসলা, লবণ সবগুলোরই দাম বেড়েছে। শীতের সবজির দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি।

চালের দাম স্থিতিশীলতা হারিয়ে ফেলার অন্যতম একটি কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যহীনতাকে। তাঁদের মতে, চালের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি। এ ঘাটতি কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা নাকি প্রকৃত অর্থে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি, তা গবেষণার বিষয়। তবে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি আছে। অন্যদিকে, সরকার কৃষকদের স্বার্থে ধানের দাম কমাতে চায় না, যা চালের উচ্চমূল্যের কারণ। কৃষিপণ্যের দামও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাড়তি চাহিদা, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়া, মাছ ও পোলট্রি ফিডের দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণেই কৃষিপণ্যের দাম কমছে না।

বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষরা যে বিরাট সমস্যার সম্মুখীন হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এটি সরকারের একধরণের ব্যর্থতা হিসেবেই চিহ্নিত হবে। কাজেই সরকারকে এ বিষয়ে বিশেষভাবে ভাবতে হবে। অনেকে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুপারিশ করছেন। তবে  এই নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় থেকে উত্তরণে শুধু মজুরি বুদ্ধি করা সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়। মজুরি বাড়লে জিনিষপত্রের দাম বাড়বে, আবারও শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বাড়বে। এ অবস্থায় উৎপাদনের প্রাণশক্তি শ্রমিককে যদি রক্ষা করতে হয় তাহলে ভর্তুকিমূল্যে রেশন চালু করতে হবে।


এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন